খুলনা, বাংলাদেশ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত
  খুলনায় ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন —–ডা. শফিকুর রহমান
  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার, ডুমুরিয়ায় জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ
  যশোরের কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
  কক্সবাজার স্টুডেন্ট ফোরাম, রাজশাহীর নতুন কমিটি অনুমোদন
  জালালাবাদে ক্ষুদে ফুটবলার নয়ন ঢাকা ফুটবল লীগে সুযোগ পেল
  গৃহপরিচারিকা নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার পুলিশ দম্পতি, জামিন চেয়ে আবেদন.
  ধ্বংসের কিনারায় কয়রা যুবসমাজ গিলে খাচ্ছে মাদক-জুয়ার বিষাক্ত সিন্ডিকেট

ডুমুরিয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান: নতুন ভবন তালাবদ্ধ

[ccfic]

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা:

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের ১৮ নং টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। যেকোনো মুহূর্তে ছাদ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও নিরুপায় হয়ে সেখানেই ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। অথচ পাশেই একটি নতুন দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করে দাঁড়িয়ে আছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় নতুন ভবনটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে খুদে শিক্ষার্থীদের।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি বহু আগেই পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে, দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এমন জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেই প্রতিদিন আতঙ্ক বুকে নিয়ে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, নতুন ভবন তৈরি সম্পন্ন হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। কিন্তু সেটি এখনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর বা উদ্বোধন করা হয়নি। নতুন ভবনটি ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। যেকোনো সময় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে—তা নিয়ে শিক্ষকরাও আতঙ্কে আছেন।কর্তৃপক্ষ যা বলছেন:এ বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।টিপনা ১৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রঞ্জিদা দাস বলেন: “আমরা প্রতিদিন এক বুক আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে আসি। ক্লাসে বসার পর সবসময় ভয়ে থাকি—এই বুঝি ছাদের প্লাস্টার খসে শিশুদের মাথার ওপর পড়লো! সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ বেয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। নতুন ভবনটি একদম প্রস্তুত হয়ে আছে, অথচ চাবি না পাওয়ায় আমরা সেখানে ঢুকতে পারছি না। কোমলমতি শিশুদের এই কষ্ট আর ঝুঁকি আর নেওয়া যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই এবং অবিলম্বে নতুন ভবনে ক্লাস শুরু করার অনুমতি দাবি করছি।””আমরা প্রতিদিন এক বুক আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে আসি। ক্লাসে বসার পর সবসময় ভয়ে থাকি—এই বুঝি ছাদের প্লাস্টার খসে শিশুদের মাথার ওপর পড়লো! সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ বেয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। নতুন ভবনটি একদম প্রস্তুত হয়ে আছে, অথচ চাবি না পাওয়ায় আমরা সেখানে ঢুকতে পারছি না। কোমলমতি শিশুদের এই কষ্ট আর ঝুঁকি আর নেওয়া যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই এবং অবিলম্বে নতুন ভবনে ক্লাস শুরু করার অনুমতি দাবি করছি।”ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম গাজী বলেন: “টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবার আগে। নতুন ভবনটি কেন এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, সে ব্যাপারে আমরা প্রকৌশল বিভাগের সাথে কথা বলছি। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বা অন্য কোনো আইনি জটিলতা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করে যেন শিশুরা নতুন ভবনে ক্লাস শুরু করতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।””টিপনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবার আগে। নতুন ভবনটি কেন এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, সে ব্যাপারে আমরা প্রকৌশল বিভাগের সাথে কথা বলছি। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বা অন্য কোনো আইনি জটিলতা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করে যেন শিশুরা নতুন ভবনে ক্লাস শুরু করতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন: “পরিত্যক্ত ভবনে শিশুদের ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। নতুন ভবন তৈরি হয়ে থাকলে শুধু উদ্বোধনের জন্য সেটি আটকে রাখা ঠিক হবে না। আমি অনতিবিলম্বে শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিচ্ছি যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন ভবনটি ক্লাসের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। শিশুদের নিরাপত্তাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।””পরিত্যক্ত ভবনে শিশুদের ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। নতুন ভবন তৈরি হয়ে থাকলে শুধু উদ্বোধনের জন্য সেটি আটকে রাখা ঠিক হবে না। আমি অনতিবিলম্বে শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিচ্ছি যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন ভবনটি ক্লাসের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। শিশুদের নিরাপত্তাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।”খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহিদুল আলম বলেন: “আমরা ডুমুরিয়ার এই বিদ্যালয়টির ব্যাপারে অবগত হয়েছি। উদ্বোধনের অপেক্ষায় নতুন ভবন পড়ে থাকবে আর শিশুরা ঝুঁকিতে থাকবে—এমনটা হতে দেওয়া যায় না। আমি স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নতুন ভবনে পাঠদান স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না।””আমরা ডুমুরিয়ার এই বিদ্যালয়টির ব্যাপারে অবগত হয়েছি। উদ্বোধনের অপেক্ষায় নতুন ভবন পড়ে থাকবে আর শিশুরা ঝুঁকিতে থাকবে—এমনটা হতে দেওয়া যায় না। আমি স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নতুন ভবনে পাঠদান স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না।”ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও খর্নিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনো আনুষ্ঠানিকতার তোয়াক্কা না করে অবিলম্বে যেন নতুন ভবনটি শিশুদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তারা চান না কোনো বড় দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের ঘুম ভাঙুক।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT